শূন্য থেকে শুরু করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

 শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা ভাড়াবাড়িতে যখন নুসরাত এসে উঠেছিল, তখন তার পকেটে ছিল মাত্র কয়েকশ টাকা, আর মনে ছিল পাহাড়সম এক ব্যর্থতার বোঝা। নিজের জমানো সবটুকু পুঁজি দিয়ে একটা ছোট বুটিক শপ শুরু করেছিল সে, কিন্তু পার্টনারের বিশ্বাসভঙ্গ আর ঋণের জালে পড়ে ছয় মাসের মাথায় সেটা বন্ধ হয়ে যায়। আত্মীয়স্বজনের কানাঘুষো আর "মেয়ে মানুষের ব্যবসা করার দরকার কী?"—এমন হাজারো টিটকারি তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল।

প্রথম কয়েকটা দিন নুসরাত শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে আকাশ দেখত। শূন্যতা তাকে গ্রাস করছিল। কিন্তু একদিন ভোরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের চোখের দিকে তাকাল। তার নামের অর্থ 'সাহায্য' বা 'বিজয়'। সে ভাবল, যদি সে নিজেই নিজেকে সাহায্য না করে, তবে জয় আসবে কোত্থেকে?

ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু

নুসরাত ঠিক করল সে হার মানবে না। হাতে থাকা সামান্য টাকা দিয়ে সে নতুন কোনো দোকান নিল না, বরং তার পুরনো সেলাই মেশিনটা পরিষ্কার করল। নিজের ফেসবুকে একটা পেজ খুলল—"নুসরাতের নকশিকাঁথা"

  • প্রথম ধাপ: সে নিজে হাতে ডিজাইন করা কিছু কামিজ আর ওড়না বানিয়ে অনলাইনে পোস্ট করল।

  • সংগ্রাম: প্রথম এক মাস কোনো অর্ডার ছিল না। কিন্তু নুসরাত দমে যায়নি। সে প্রতিদিন নতুন নতুন ডিজাইনের কাজ লাইভ এসে দেখাতে লাগল।

  • সাফল্য: দ্বিতীয় মাসের মাঝামাঝি এক প্রবাসী নারী তার হাতের কাজ পছন্দ করে একবারে দশটি ড্রেসের অর্ডার দিলেন। সেটাই ছিল টার্নিং পয়েন্ট।

নুসরাতের বিজয়

এক বছর পর, নুসরাতকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তার অধীনে আরও দশজন অসহায় নারী কাজ করেন। যারা এক সময় তাকে উপহাস করেছিল, আজ তারাই তাদের মেয়েদের নুসরাতের কাছে পাঠায় কাজ শেখার জন্য।

সেদিন বিকেলে এক ইন্টারভিউতে নুসরাতকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনার সাফল্যের রহস্য কী?"

নুসরাত মৃদু হেসে বলল—

"যখন সব হারিয়ে শূন্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন বুঝেছিলাম শূন্য মানে শেষ নয়। শূন্য হলো এমন একটা জায়গা যেখান থেকে আপনি আপনার নিজের মতো করে পৃথিবীটা আবার নতুন করে সাজাতে পারেন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটাই আসল 'নুসরাত' বা বিজয়।"

Comments